[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]
কখন যে কার মৃত্যু হবে কেউ জানে না ! তবুও সতর্কতা অবলম্বন করলে বিপদ থেকে অনেক ক্ষেত্রেই মুক্তি পাওয়া যায় । যেহেতু আমরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত, তাই আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সব সময় । জীবন আমার তাই আমার জীবন নিয়ে অন্য কেউ ভাববেনা, আমাকেই ভাবতে হবে ।
চলুন, আজ আমরা এক লাইনম্যান ভাইয়ের মৃত্যুর গল্প শুনি, আর এখান থেকে শিক্ষা গ্রহন করি । আর কোনো ভাইকে যেন ওই ভাবে জীবন হারাতে না হয় ।
আবাসিক গ্রাহকের সংযোগ বকেয়ার কারনে বিচ্ছিন্ন ছিল । সিএমও অনুযায়ী উহার পুনঃসংযোগ প্রদান করতে হবে । পুনঃসংযোগ সিএম ও এবং সার্ভিস অর্ডার মোতাবেক মিটার ও সার্ভিস ড্রপ তার নিয়ে ২ জন লাইনম্যান গ্রাহক প্রান্তে যান ।কেউ কি জানত ! আর কিছুক্ষন পরে একজন ভাই ওপারে চলে যাবে ! ২ জন লাইনম্যান হাসি মুখেই আনন্দের সাথে কাজ করছিল । এক ভাই ড্রপ তার টানতেছিল আর অন্য ভাই মিটার স্খাপন করতেছিল ।মিটার স্থাপন করতে গিয়ে গ্রাহকের লোডের তার হাত দিয়ে স্পর্শ করা মাত্রই ভাইটি মৃহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতের শক খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে !
একটু পিছনে যাই-
ভাইটি কেন শক খেয়ে মারা গেল? জনৈক গ্রাহক তার সংয়োগ কাটা ছিল বলে পাশের বাড়ি থেকে সাইড কানেকশন নিয়ে লাইন চালাচ্ছিল, আর এ বিদ্যুৎ সার্ভিস এন্ট্রাস তার পর্যন্ত ছিল । ভাইটি লোডের তার ধরা মাত্রই বিদ্যুতায়িত হয়ে যায় আর স্পটের মৃত্যু বরন করেন ।
শিক্ষাঃ
আমরা অনেকেই এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি আর আগামীতেও হবো । হয়ত আমরা বেঁচে গেছি । কিন্তু এ ঘটনা থেকে যদি শিক্ষা না নেই হয়ত ভবিষ্যতে আমাদের পরিনাম ওই ভাইয়ের মতই হবে । এই ধরনের কাজে গেলে- মেইন সুইচ বন্ধ করে নিতে হবে। সার্ভিস এন্ট্রাস তারে বিদ্যুৎ আছে কি না তা টেষ্টার দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে। এক মিনিট সময় হয়ত বেশি লাগত কিন্তু বেঁচে যেতে আমার ভাইয়ের প্রাণটি । তাই তারাহুড়া নয়, সেফটি নিয়েই কাজ করতে হবে আমাদের ।আমার লাইনম্যান ভাইয়ের প্রতিটা দিন হোক দুর্ঘটনা মুক্ত । ভাল থাকুক পৃথিবীর প্রতিটা আলোর গেরিলা।
