আমরা বাসা বা অফিসে বৈদ্যুতিক ফ্যান ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু সময়ে সময়ে আমরা ফ্যানটি বন্ধ করে দেই, বা পূর্ণগতিতে ছেড়ি যখন ঘাম অসহ্য হয় এবং বাইরে থেকে ঘর্মক্লান্ত হয়ে ফিরি। এটা হলো আমাদের জন্য একটি উপায় বলে মনে করি যাতে আমরা কম বিদ্যুত ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর থাকতে পারি। আমরা ফ্যানের গতি সংশোধন করে একটু কমিয়ে দেই যখন শরীরের ঘাম জুড়িয়ে আসে এবং শরীরটাও ঠান্ডা হয়ে যায়।
ফ্যান যদি পূর্ণগতিতে চালানো হয় তবে বাতাসটা গায়ে জোরে জোরে লাগে ! কিন্তু কিছূটা অসুবিধাও অনুভুত হয়। আবার যদি গরমের সময় সারারাত ধরে ফ্যান চালিয়ে রাখি তবে আমরা গতিটা একটু কমিয়ে দিয়েই চালায়। অর্থাৎ ফ্যান অপেক্ষাকৃত কম বা মধ্যম গতিতেই চালিয়ে থাকি আমরা। ফ্যানের কম গতিতে বাতাসও তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম পাওয়া যাবে এটায় স্বাভাবিক। তাহলে বিদ্যুৎ খরচও কিন্তু কম হওয়ার কথা। বাট বিদ্যুৎ খরচ আসলেই কি কম হয়? প্রশ্ন হচ্ছে, ফ্যান ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয় কি না? আর জোরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ কি বেশি হয় কিনা? এ নিয়ে ঘরে-বাইরে আমরা প্রায়স বিতর্তিত হয়ে থাকি। চলুন আজ এ প্রশ্নের সমাধান খোজার চেষ্টা করি।
দেখা যাক, পদার্থ বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে কী বলেন? আমরা সাধারণত গতি নিয়ন্ত্রণ করি রেগুলেটর ব্যবহার করে। রেগুলেটরের কাঁটা যদি ঘুরিয়ে ১ বা ২ নম্বরে রাখি, তাহলে ফ্যান চলে ধীরগতিতে। আবার রেগুলেটরের কাঁটা ঘুরিয়ে ৫ নম্বরে দিলে ফ্যান চলে ফুলস্পিডে।এর কারণ হচ্ছে মূলত রেগুলেটরের ভেতরের রোধ বা রেজিস্ট্যান্স ব্যবস্থা। রেগুলেটরের কাঁটা যখন ১ বা ২ নম্বরে দেওয়া হয় তখন রোধ শক্তি বেশি থাকে। অর্থাৎ মূল সরবরাহ থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহ রেগুলেটরে এসে বাধার সম্মুখীন হয়।যার ফলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহ রেগুলেটরের ভেতর দিয়ে এসেছে, তার তুলনায় অনেক কম প্রবাহ ফ্যানে প্রবেশ করে। কাজেই ফ্যানও ঘোরে ধীরগতিতে।
