ডিমান্ড চার্জ কী, কারা নির্ধারণ করেঃ
যখন কোন একজন গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে মিটারের জন্য আবেদন করে, তখন উক্ত গ্রাহকের ব্যবহার সীমা কতটুকু হবে, তা উল্লেখ করে তাকে ফর্মে অঙ্গীকার/স্বাক্ষর দিতে হয়। যেমন, কোন গ্রাহক যদি বলে তার ২ কিঃওঃ (কিলোওয়াট) লাগবে। তার মানে উক্ত গ্রাহকের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমা ২কিঃওঃ। এই ২ কিঃ ওঃ হলো তার চুক্তিবদ্ধ লোড। এই সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সীমা বা চুক্তিবদ্ধ লোডের উপর যে চার্জ ধার্য করা হয় তাকেই ডিমান্ড চার্জ বলা হয়।
গ্রাহকের সেই চুক্তিবদ্ধ লোড সরবরাহ করার জন্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সকল প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মালামাল সহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে উক্ত গ্রাহকের সরবরাহ নিশ্চিত করে থাকে।
যেমন, ট্রান্সফরমার, খুঁটি, তার ইত্যাদি। এসব যন্ত্রপাতি ও মালামালের টাকা যেমন সরকার বহন করে, তেমনি ডিমান্ড চার্জের মাধ্যমে এই টাকা সরকার আবার ফেরতও নেয়। ডিমান্ড চার্জ কেউ চাইলে নিজের ইচ্ছামত ধার্য করতে পারে না। ইহা নির্ধারণ করে দেয় সরকারি সংস্থা Bangladesh Energy Regulatory Commission (BERC). বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বেচা, কেনা, উৎপাদন, বিতরণ, জরিমানা, ভর্তুকি, বিলের রেট, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট সব কিছু নির্ধারণ করে দেয় এই BERC.

যেমন- আবাসিক, সেচ-কৃষি কাজের গ্রাহকদের জন্য ডিমান্ড চার্জ প্রতি কিলোওয়াট ৩০ টাকা, বাণিজ্যিক বিপণনের জন্য ৬০ টাকা ইত্যাদি ধার্য করে দিয়েছে BERC. উক্ত ডিমান্ড চার্জ ও ব্যবহৃত বিদ্যুৎ খরচের উপরই মোট বিল হিসাব করা হয়। এই টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হয়। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই টাকার মালিক না।
বর্তমানে বেশিরভাগ আবাসিক গ্রাহকগন অনেক ডিমান্ড চার্জ ফাকি দিয়ে থাকেন । ডিমান্ড চার্জ ফাকি দেওয়ার সুয়োগ রয়েছে এ্যানালগ এবং ডিজিটাল মিটারে । যখন এক জন গ্রাহক নতুন সংয়োগ নেন তখন সাধারনত লোড .৯০ অথবা ১ .০০ কিঃওয়াট নিয়ে থাকেন । কিন্তু নেওয়ার পরে লোড বাড়াতেই থাকেন ।
তবে বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ ফাকি দেওয়ার কোনো সুয়োগ নাই । চুক্তিবদ্ধ লোডের চেয়ে বেশি লোড ব্যবহার করলেই মিটারে বিদ্যুৎ সংয়োগ অটো বন্ধ হয়ে যাবে ।
আশা করি ডিমান্ড চার্জ বিষয়টা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন । সঠিক তথ্য জানুন, সঠিক তথ্য জানিয়ে দিন অন্যদের। আরও তথ্য পেতে আমাদের আমাদের সাথেই থাকুন । ধন্যবাদ।
