কারেন্ট শক খেলে কি করবেন?

বিদ্যুৎ এমনই এক শক্তি যা সমগ্র পৃথিবীকে আলোকিত করেছে, যখন থেকে মানুষ এই শক্তিকে নিজের আয়ত্বে এনেছে, সূচনা হয়েছে মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়ের। বৈদ্যুতিক শক তখনই অনুভূত হয় যখন বৈদ্যুতিক শক্তি মানবদেহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই প্রবাহটি জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে। অধিকাংশ বিদ্যুৎপৃষ্ট হবার ঘটনা ঘটে অসতর্কতা থেকে।
মানবদেহ বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। আমরা জানি বিদ্যুৎ প্রবাহ দুই ধরনের একটি হচ্ছ AC এবং অপরটি হচ্ছে DC বিদ্যুৎ প্রবাহ । AC বিদ্যুৎ প্রবাহ আকর্ষন করে এটা মারাত্মক এবং DC বিদ্যৎ প্রবাহ ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় । বিদ্যুৎ প্রবাহ রয়েছে এমন কোন খোলা তার বা বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এলে তাই সহজেই দেহে বিদ্যুতায়ন হতে পারে। প্রচলিত ভাষায় যাকে বলা হয় কারেন্ট শক বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট। অসতর্কতাবশত এধরণের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অনেক সময় এধরণের কারেন্ট শকে মৃত্যুও ঘটতে পারে।
এখন আসুন জেনে নেয়া যাক কেউ কারেন্টে শক বা বিদ্যৎস্পৃষ্ট হলে তাৎক্ষনিকভাবে আমাদের কোন কাজ গুলো করা দরকার।
আমাদের সবার বাড়িতেই ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি আছে। এসব চালাতে গিয়ে অসাবধানতায় ইলেকট্রিক শক খাওয়ার ঘটনাও বেড়ে চলছে। তাই ইলেকট্রিক দুর্ঘটনার ব্যাপারে জানা থাকা খুব জরুরি। একটু সচেতনতা বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনকে।
১. কেউ ইলেকট্রিক শক খেলে তাকে ধরা যাবে না। এমন করলে আক্রান্তকে তো বাঁচাতে পারবেনই না, উল্টো আপনিও একই সঙ্গে শক খাবেন।
২. কেউ শক খেয়েছে বুঝতে পারলে প্রথমেই কারেন্টের সুইচ বন্ধ করুন। যদি সম্ভব না হয় তাহলে শুকনো খবরের কাগজ, উলের কাপড়, শুকনো কাঠের টুকরা অথবা পলিথিন ব্যাগে হাত মুড়িয়ে শক খাওয়া ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ইলেকট্রিক শকের উৎস থেকে আলাদা করে দিন। যদি কিছুতেই কাজ না হয়, তাহলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিন।
৩. শক খাওয়া ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করুন। সাধারণত বলা হয় যে ৩ মিনিটের ভেতর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা গেলে ১০ জনের ভেতর ৭ জনকে বাঁচানো সম্ভব। দেরি করলে বাঁচানোর সম্ভাবনা কমে আসে। এমন জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ওপর আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ভর করে। একই সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থাও করুন।
৪. শক খাওয়া ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড চালুর চেষ্টা করুন। এসময় রোগীর মুখ দিয়ে বাতাস প্রবেশ করিয়ে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করুন।
৫. শক খাবার পরও শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে তবে খুব বেশি ভয়ের কিছু নেই। রোগীকে শুয়ে থাকতে বলুন। এ সময় একজন ডাক্তারকে খবর দিন অথবা হাসপাতালে নিয়ে যান।
উপরের প্রাথমিক নিয়ম গুলো মাথায় রেখে ব্যাবস্থা নিলে কারেন্ট শক খেলেও বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বলে মনে করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *