সিলিং ফ্যান কম ঘুরলে কি করবেন?

গ্রীষ্মকালে সকলে আমরা সবাই কমবেশি ঘরে ফ্যান চালাই। শীতকালে অনেকদিন ফ্যান ঘোরা বন্ধ থাকলেও গরম পড়ার সাথে সাথেই সিলিং ফ্যানকে আবার চালু করি। গরম যত বাড়তে থাকে এবং ফ্যানের ঘোড়ার পরিমাণও তত বাড়তে থাকে। ফ্যান আমরা হয়তো সারাদিন একবার বন্ধ নাও করতে পারি বা অল্প কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করতে পারি তাও যদি আমরা বাইরে থাকি। তো এই গরমে আপনাদের সিলিংফ্যান কিভাবে আসলে ভালো থাকবে বা আপনার ফ্যান কে কিভাবে আপনি ভালো রাখতে পারবেন সাথে বেশি বাতাস পেতে পারবেন আপনার কাঙ্খিত ফ্যানটি থেকে।আমরা গরমের দিনে অনেকেই অতিরিক্ত ফ্যান চালাই যার ফলে অনেক অনেক ধরনের সমস্যা হয়। যেমন যেমন ফ্যান আস্তে ঘোরা বা না ঘোরা।ফ্যান আস্তে ঘোরার কারণ কি এবং ফ্যান আস্তে করার সমাধান কি?
১.ফ্যান আস্তে ঘোরার ক্ষেত্রে মূলত সবচেয়ে বেশি সমস্যা আমাদের হলো ক্যাপাসিটর। একটা সিলিং ফ্যান নির্দিষ্ট ক্যাপাসিটর থাকে। বিশেষ করে সিলিং ফ্যানগুলোতে বিভিন্ন রকমের ক্যাপাসিটর দেওয়া হয়ে থাকে কোম্পানির পক্ষ থেকে এবং ফ্যানের সাথে সেগুলো লাগানো থাকে। দীর্ঘদিন ফ্যান চালানোর ফলে সিলিং ফ্যানের ক্যাপাসিটর গুলো আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায় বা এটার কার্যক্ষমতা কমে যায় আস্তে করে। আবার অনেক সময় ক্যাপাসিটারের ক্ষমতা কম থাকে সে কারণে ক্যাপাসিটর কাজ ঠিকমত করতে পারে এই কারণেও ফ্যান আস্তে ঘোরে।সিলিং ফ্যান আস্তে ঘোরার একমাত্র কারণ হলো ক্যাপাসিটর। ক্যাপাসিটর চেঞ্জ করে নতুন ক্যাপাসিটর লাগান তাহলেই আপনারা পুনরায় এসে আগের স্পিড ফিরে পাবেন এবং আগের মত ফ্যানটি করে চলতে পারবে।
সাধারণত যেই সাইজের সিলিং ফ্যান আমাদের ঘরের ভিতর লাগাই তার সাইজ হচ্ছে ২৬ ইন্চি, ফ্যানের সাথে যেই ক্যাপাসিটর দেওয়া থাকে তার ভোল্ট হচ্ছে 3.5 xF যার ভোল্ট হচ্ছে 350v AC. ঠিক এই ভোল্টের ক্যাপাসিটর যদি আপনার নতুন লাগান আপনার সিলিং ফ্যানে তাহলে দেখবেন যে ফ্যানটি নতুনের মত বাতাস দিবে এবং গতি বেড়ে যাবে। একই বাতাস আপনাকে দিতে সক্ষম হবে এই ক্যাপাসিটর লাগানোর পর।
২. দ্বিতীয় ধাপে আমরা চেক করব যে ফ্যানের ফিটিংসগুলো আসল ঠিক আছে কিনা। অর্থাৎ ফ্যানের নাট বল্টু ঠিক আছে কিনা ফ্যানের পাখাগুলো সোজা আছে কিনা বা কোন একটু বাঁকা আছে কিনা সর্বশেষ সেটিং গুলো প্রত্যেকটা নাক এবং প্রত্যেকটা ফ্যানের পাতা সঠিক স্থানে আছে কিনা এসব কিছু যাচাই-বাছাই করে ফ্যানটা সেট আপ করতে হবে।
একই সাথে নিয়মিত সার্ভিসিং করাতে হবে।আমাদের অভ্যাস হলো ফ্যান যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুরছে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা আমরা কোন যত্ন নেই না। ফ্যান যখন ঘোরা বন্ধ করে দেয় ঠিক তখনই আমরা বিভিন্ন মেকারের কাছে নিয়ে যাই এবং সার্ভিসিং করাই। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত নষ্ট না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ফ্যান কোন গুরুত্ব দেই না। ফ্যান কে কোন গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছামত ফ্যান চালাতে থাকি যতক্ষণ পর্যন্ত নষ্ট না হয়। নষ্ট হওয়ার পর আমরা সেটা সার্ভিসিং করি। ঠিক এই কারণেই ফ্যানগুলো আমাদেরকে ভাল সার্ভিস দেয় না তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত ফ্যানগুলোকে সময়মতো সার্ভিসিং করানো।
৩. ফ্যান যদি কোন কারনে জ্যাম হয়ে যায় বা কম ঘোরে তাহলে ফ্যানের ঘোরার জন্য বিয়ারিং এ মবিল বা নারিকেল তেল দিতে হবে। এবং সব সময় চেষ্টা করতে হবে আপনার ফ্যানের যে ফিটিংস গুলো রয়েছে বিশেষ করে নাট বল্টু এই টাইপের যেই ইকুইপমেন্ট রয়েছে সেগুলোকে সম্পূর্ণ পারফেক্টলি ফিট করে লাগানো হয়েছে কিনা। এই দিকগুলো খেয়াল করে তারপর আপনাকে ফ্যান অন করতে হবে। কারণ দেখা গিয়েছে যে যদি আপনি নাট বল্টু এগুলো পারফেক্টলি না লাগান এবং ফ্যান ব্যবহার করা শুরু করেন তাহলে আপনার স্লো হয়ে যাবে এবং আপনার কয়েলও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সব সময় চেষ্টা করবেন ফ্যানের ফিটিংস প্লাস ফ্যানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবকিছু যেন ঠিকঠাক থাকে। আপনি যোদি আপনার ফ্যানের এই ভাবে জত্ন নিন তাহলে আপনার ফ্যান খুব ভালো চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *