আপনারা হয়তো প্রায় দেখেছেন যে পাখিরা বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর বসে কখনো রোদ পোয়াচ্ছে বা কখনো ঝাকে ঝাকে পাখি একসাথে মিলে তারের উপর বসে কিচিরমিচির করে খেলা করছেকিন্তু তাদেরকে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে যেতে কখনো দেখেননি কিন্তু কেন? তারা কি শক খায় না? নাকি সৃষ্টিকর্তা তাদের এই সুপার পাওয়ার দিয়েছে যাতে তারা বিদ্যুৎপৃষ্ঠ না হয়?অনেকে ভাবেন, যেসব প্রাণি ডিম পাড়ে তাদের বৈদ্যুতিক শক লাগে না। অন্যদিকে যেসব প্রাণি বাচ্চা প্রসব করে তাদের বৈদ্যুতিক শক লাগে। পাখিই এর বড় প্রমাণ বলে মনে করে মানুষ।এটা একেবারে অবৈজ্ঞানিক যেকোনো প্রাণির দেহ বিদ্যুৎ পরিবাহী। তাই বিদ্যুতের সংস্পর্শে এলে যেকোনো প্রাণিই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবে।কিন্তু পাখিরা অবলীলায় বিদ্যুতের তারে বসে থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো ইলেকট্রন এর প্রবাহ, এক কথায় Flow of Electron এবং এই ইলেকট্রন একটু অলস প্রকৃতির হয়, সব সময় চায় কম বাধা সম্পূর্ণ রাস্তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে অর্থাৎ রেজিস্ট্যান্স কম এমন পথ দিয়ে ইলেক্ট্রন খুব ভালো ভাবে প্রবাহিত হতে পারে সেই কারণে যেসব পদার্থে রেজিস্ট্যান্স কম তাদেরকে আমরা পরিবাহী বলি।
রেজিস্ট্যান্স সবচেয়ে কম তাই বলে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য স্বর্ণ দিয়ে তৈরি তার ব্যবহার করবো তা কিন্তু নয়, কারণ সেটা যদি করা হয় তাহলে কিছুদিন পরে দেখা যাবে ইলেকট্রিক লাইনে শুধু পোল গুলো দাঁড়িয়ে আছে আর তার গুলো নেই। তাই সারাবিশ্বে বিদ্যুত সরবরাহ করার জন্য তামা বা কপার তার ব্যবহার করা হয় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়ামের তারও ব্যবহার করা হয়।
আর পাখির দেহ মোটেই ভালো পরিবাহী নয় কারণ পাখির শরীরের রেজিস্ট্যান্স তারের তুলনায় অনেক বেশি তাই ইলেকট্রন যেহেতু কম বাধা বা কম রেজিস্ট্যান্স সম্পন্ন রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে চায় তাই পাখির দেহকে বাদ দিয়ে তার নিজের পথেই চলে এবং পাখি বিদ্যুৎপৃষ্ঠ না হওয়া এটাই হলো একটা কারণ।
পাখি বৈদ্যুতিক তারে নিশ্চিন্তে বসে থাকার পেছনে আরেকটি কারণও রয়েছে। আমরা জানি কারেন্ট হল ইলেকট্রনের প্রবাহ এবং এই ইলেকট্রন তারের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় এবং প্রবাহিত হয়ে বিদ্যুৎ রূপে আমাদের বাড়িতে এসে পৌঁছায় এবং সার্কিটের মাধ্যমে সেটা আবার গ্রাউন্ডে ফিরে যায় এবং এইভাবে একটা সার্কিট কমপ্লিট হয়।
ঠিক একই ভাবে যখনি পাখি খোলা তারের ওপর এসে বসে তখন কেবল মাত্র পাখির পায়ের সংস্পর্শ একটা তারের উপরে থাকে অন্য কোন বস্তুর সাথে অর্থাৎ অন্য কোনো তার বা মেটেরিয়াল এর সংস্পর্শে থাকে না যার কারণে ইলেকট্রন তার একটা সার্কিট পূরণ করতে পারেনা প্রবাহিত হওয়ার জন্য এবং তাই সোজা কম বাধা সম্পন্ন জায়গার মাধ্যমে অর্থাৎ তারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় যার কারণে পাখিকে কোন শক লাগেনা।
এবং ঠিক একইভাবে যদি কোন মানুষ খোলা তারের উপর এসে বসে যায় তাকেও কিন্তু কোন কারেন্ট লাগবে না কিন্তু যদি তারের ওপর বসে কোন বস্তু বা গাছ বা কোন ধাতুর সংস্পর্শে আসে বা মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কোনো খোলা তারে স্পর্শ করে তখন কিন্তু ওই মানুষটিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হবে। কারণ এখানে ইলেকট্রন সোজা মানুষটির শরীরে প্রবেশ করে আর্থের চলে যাবে এবং এইভাবে সার্কিটটি কমপ্লিট হয়ে যাচ্ছে ইলেকট্রন প্রবাহিত হওয়ার জন্য।
ঠিক একইভাবে যদি কোন পাখিও খোলা তারের উপর বসা অবস্থায় কোনো কারণে যদি আরেকটি তারের সংস্পর্শে এসে যায় বা অন্য কোন বস্তু বা অন্য কোন মেটেরিয়াল এর সংস্পর্শে এসে যায় তাহলে পাখিটিও বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হবে।
আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে কারেন্ট ততক্ষণ আপনার ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না কোন সার্কিট কমপ্লিট করছেন বা কোনো আর্থিং এর সংস্পর্শে আপনি আসছেন।
এই জন্য কারেন্টের হাত থেকে বাঁচার জন্য আর্থিং সিস্টেম এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ আর্থিং সিস্টেম গ্রাউন্ড এর সাথে যুক্ত থাকে আর এই কারণে আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে একটা পারফেক্ট আর্থিং থাকা জরুরী এবং বাড়ির সমস্ত ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স গুলো এই আর্থিং এর সাথে পারফেক্ট ভাবে কানেক্ট থাকা জরুরী যাতে করে আমরা কোন রকম ইলেকট্রিক শক খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যেতে পারি।
আরেকটি ব্যাপার হলো, পাখির পায়ের তলায় একধরনের অস্থি বা চামড়া থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে অ্যাডহেসিব প্যাড বলে। এই অ্যাডহেসিব প্যাড বিদ্যুৎ পরিবহনে অক্ষম। এ কারণেই বিদ্যুতের তারে বসলেও শক খায় না পাখিরা।
তা ছাড়া পাখিদের পালকও বিদ্যুৎ অপরিবাহী। তবে পালক তুলে ফেললে নির্ঘাত শক খেয়ে মরে যাবে। বাদুরের কপাল মন্দ। কারণ এর গায়ে লোম নেই। পাখাও বড়। তাই প্রায়ই এদের কারেন্টের তারে মরে শুঁটকি হয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায়! উপরের এই কারন গুলোর জন্য পাখিদের সক লাগে না।
