বৈদ্যুতিক শক খাননি এমন লোক খুঁজে বর্তমানে পাওয়া কঠিন। হোক সেটার পরিমাণ কম অথবা বেশি। ছোট বড় প্রায় সবারই এই ধরনের ইলেকট্রিক শকের অভিজ্ঞতা আছে। যেখানে ছোটখাটো যেকোন বৈদ্যুতিক শক খেলে আমাদের শরীরে সামান্য ঝিনঝিন অনুভূতি হয়, সেখানে অধিক মাত্রার ইলেকট্রিক শক খুব সহজেই কেড়ে নিতে পারে মানুষের জীবন।
সুতরাং বোঝা যায় মানুষের শরীর বেশ প্রচন্ড পরিমাণ তড়িৎ পরিবহন করে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হল কি আছে আমাদের এ মানবদেহে যে এটি এতি ভাল বিদ্যুৎ পরিবহন করে থাকে? যেখানে অনেক প্রাণী (যেমনঃ পাখি) আছে যাদেরকে আমরা সচারাচার শক খেতে দেখি না।
আমাদের মানবদেহ এত ভাল পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে মূলত শরীরে উপস্থিত কিছু আয়নের কারণে। আমাদের দেহে কিছু ধাতব আয়নের আধিক্যতার কারণে মানবদেহ ভাল বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে ওঠে। এসকল ধাতব আয়নের মধ্যে সোডিয়াম (Na) আয়ন, পটাশিয়াম (K) আয়ন, ক্লোরাইড (Cl) আয়ন অন্যতম।
আমাদের শরীরের এক তৃতীয়াংশ পানি (O2), সেই সাথে এসব দ্রবীভূত ধাতব আয়ন আমাদেরমানব দেহকে বেশি পরিমাণ তড়িৎ পরিবাহী করে তোলে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় যদি শরীর বেশি ভেজা থাকে তাহলে বৈদ্যুতিক শকে আমাদের জীবনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। আবার আমরা যদি খালি পায়ে মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকি, তাহলে ইলেট্রিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে স্থািন্তরিত হয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের শরীরকে মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে।
আর এসকল কারণেই মূলত আমরা সহজেই বৈদ্যুতিক শক খেয়ে থাকি।
