বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা কেন ঘটে?

বাংলাদেশে ৮০ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বিপিডিবি, ডেসা, ডেস্কো, অজওপাডিকো এবং নেসকো বিদ্যুৎ বিতরন করে আসছে। এই বিদ্যুৎ বিতরনের কাজে নিয়োজিত বিশাল এক কর্মী বাহিনী দিন রাত আমাদের চোখের অন্তরালে কাজ করে যাচ্ছে। এতে প্রায়শই বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। যা খুবই অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ভাবেই কাম্য নয়।

বিদ্যুৎ বিহীন একটি দিনও কল্পনা করা যায় না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার । তবে আপনার সচেতনতার অভাবে বা অবহেলার কারণে ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। কেড়ে নিতে পারে আপনার মুল্যবান জীবন। আপনার জীবন পৃথিবীর সকল কিছুর চাইতেও দামী তাই সামান্য অবহেলায় জীবন হানীর কারণ হবেন না। আসুন জেনে নেই কি কি কারনে বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা ঘটে থাকে।

বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা সাধারণত তিনটি কারনে ঘটে থাকে।
১। কারিগরী কারনে
২। অকারিগরী কারনে ও
৩। প্রাকৃতিক কারনে।

দুর্ঘটনার কারিগরী কারণসমূহঃ
১. লাইনে কাজ করার সময় শাটডাউন গ্রহন না করেই কাজ আরাম্ভ করা।
২. নিয়মের বাহিরে সাট-ডাউন গ্রহন।
৩. ভুল ফিডার সাট-ডাউন।
৪. বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া, ফাজিং টেষ্ট /ভোল্টেজ টেষ্টার ব্যবহার না করা।
৫. অস্থায়ী গ্রাউন্ডিং না করা ।
৬.ডুয়েল সোর্স এবং জেনারেটর সংযোগ থাকা এবং সে সম্পর্কে অবগত না থাকা ক্যাপাসিটর সংযোগ থাকা এবং কাজের সময় লাইন ক্যাপাসিটর ডিসচার্জ না করা।
৭. লাইনের সেকসন বা ট্রান্সফরমার ফিউজ কাট-আউটের ফিউজ ব্যারেল নীচে না নামিয়ে ঝুলিয়ে রাখা।
৮. বিতরন লাইনের ত্রুটি নিরসন না করে এসিআর/ওসিআর/ব্রেকারের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ লাইন চালুর চেষ্টা করা।
৯. যথাযথভাবে বিতরন লাইন পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ না করা।
১০. বিতরন লাইনের ফিডার সমূহ ওভারলোডেড থাকা।
১১. কানেক্টর না চেপে পেচিয়ে সংযোগ চালু করা।
১২. বিতরন লাইনের ফিডার/উপকেন্দ্রের মধ্যে লোড বিভাজন/লাইন স্থানান্তরের বিষয়টি রেকর্ড না রাখা এবং সংশ্লিষ্টরা অবহিত না থাকা।
১৩. পুরাতন বা জরাজীর্ণ লাইন রক্ষণাবেক্ষন ও নবায়ন না করা।
১৪. এসিআর বা ব্রেকার এর কারেন্ট সেটিং যথাযথ না থাকা। ট্রান্সফরমারে সঠিক সাইজের ফিউজ লিংক ব্যবহার না করা।
১৫. সংযোগ পয়েন্টে লুজ থাকা ও কন্ডাক্টর রেডহট হওয়া।

দুর্ঘটনার অকারিগরী কারণসমূহঃ
১. বিতরন লাইনে কর্মরত বিদ্যুৎ কর্মীদের অজ্ঞতা ও অবহেলা এবং এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত চর্চা না করা।
২. অধিক আত্মবিশ্বাস ও কাজের সময় শর্ট-কাট পদ্ধতি অবলম্বন করা।
৩. সঠিক ভাবে রাইট অফ ওয়ে না করা ।
৪. বিতরন লাইনের পাশে নিরাপদ ক্লিয়ারেন্স যথাযথ না থাকা। নির্ধারিত দূরত্ব না মেনে ঘরবাড়ি তৈরী এবং গাছ লাগানো।
৫. অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার , সাইড কানেকশন, মিটার ও সিটি/পিটি ট্যাম্পারিং ইত্যাদি।
৬. ওয়ারিং এর নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা এবং ওয়্যারিং সঠিকভাবে না করা।
৭. সঠিক কর্ম পরিকল্পনা না থাকা এবং লাইন সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকা।
৮. শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকা এবং কাজে গমন করা।
৯. কাজের পরিবেশ নিরাপদ রেখে কাজ শুরু করা ।১০. পোল নাম্বারিং ও কারিগরি তথ্যাদি আপডেট না থাকা।
১১. নিরাপত্তা মিটিং ও কারিগরি সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে মেনে না চলা।
১২. অজ্ঞতা, অসাবধানতা, উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতা।
১৩. নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মেনে না চলা।
১৪. যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন না মানা।

প্রাকৃতিক দুর্ঘটনার কারণসমূহঃ
১. বাযুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহঃ
ঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, হারিকেন, জলোচ্ছ্বাস।
২. ভূ-পৃষ্ঠের দুর্যোগসমূহঃ
নদীরপাড় ভাঙন,বন্যা, উপকূলীয় ভাঙন,ভূমিধ্বস, মৃত্তিকা ক্ষয় ও অগ্নিকান্ড।
৩. ভূগর্ভস্থ দুর্যোগসমূহঃ
অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প।

মোঃ হামিদুর রহমান

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *