বৈদ্যুতিক মটর কিভাবে কাজ করে?

যে যন্ত্রের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে আর্মেচার ঘোরে। ফলে, তড়িৎ শক্তি সরাসরি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় ও কাজ করার ক্ষমতা লাভ করে, তাকেই‌ বৈদ্যুতিক মোটর বলে।

একটি নরম লোহার চোঙ এর উপর বেশ কয়েকবার অন্তরিত তামার তারকে জড়িয়ে আর্মেচারের একটি কুণ্ডলী ABCD তৈরি করে ওই কুন্ডলীটিকে একটি শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্র (N-S)এর মধ্যে রাখা হয়। এই চোঙটির ভেতর দিয়ে একটি ধাতবদণ্ড প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। দন্ড ও নরম লোহার চোঙ এর মধ্যে অন্তরক থাকে।

আর্মেচার তারের দুই প্রান্ত দুটি ধাতব অর্ধবলযয়ের (R1, R2) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছে। এই অর্ধবলয় দুটিকে মূলত কম্যুটেটর বলে। কম্যুটেটর দুটির প্রত্যেকটির সঙ্গে সাধারণত একটি করে কার্বন ব্রাশ (P,Q) আলগাভাবে স্পর্শ করানো থাকে। ব্রাশ দুটি সরাসরি পরিবাহী তারের সাহায্যে তড়িৎ উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

ব্যাটারির পজিটিভ ও নেগেটিভ তড়িৎদ্বার কে যথাক্রমে P এবং Q ব্রাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়ে থাকে। যখনই আর্মেচারে তড়িৎ প্রবাহিত হয় তখনই শক্তিশালী চুম্বক মেরুর মধ্যে রাখা আর্মেচারটি ফ্লেমিংয়ের বাম হস্ত নিয়ম অনুযায়ী ঘুরতে শুরু করে দেয়। তাই, AB বাহু ভূমির সঙ্গে খারাপভাবে ওপরের দিকে এবং CD বাহু নিচের দিকে ঘুরে যায়। CD বা AB বাহুর তড়িৎ প্রবাহ চুম্বক বলয়রেখার অভিমুখী বলে এই বাহু দুটিকে কোন বল ক্রিয়া করে না। এখানে ABCD আর্মেচারের AB ও CD বাহুর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ পরস্পর বিপরীতমুখী।

আর্মেচার অর্ধপাক মানে, 180° ঘোরার পর যদি P ব্রাশ R2 কে এবং Q ব্রাশ R1 কম্যুটেটরকে স্পর্শ করে, তাহলে আর্মেচারের CD অংশে D থেকে C এর দিকে এবং AB অংশে B থেকে A এর দিকে তড়িৎ প্রবাহিত হতে থাকবে। ফলে CD বাহু উপরের দিকে এবং AB নীচের দিকে ঘুরে যাবে। এভাবে মূলত আর্মেচারটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করতে পারে। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত তড়িৎ প্রবাহ চালু থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত আর্মেচারটি চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে অনুভূমিক অক্ষ L1L2 এর চারদিকে অবিরাম ঘুরতে থাকে। এভাবেই মূলত বৈদ্যৎতিক মোটর কাজ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *