বৈদ্যুতিক মোটর কিভাবে কাজ করে?

যে যন্ত্রে তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে আর্মেচার ঘোরে। ফলে, তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় কাজ করার ক্ষমতা লাভ করে, তাকে বৈদ্যুতিক মোটর বলে।

বৈদ্যুতিক মোটরের ব্যবহার: বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে পাখা ঘোরে, পাম্প চলে, রেলগাড়ি, ট্রাম্প, রেফ্রিজারেটর, ছাপাখানা, বড় বড় কলকারখানা ইত্যাদিতে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়।
প্রকারভেদ অনু্যায়ী এর গঠন ও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয়। বৈদ্যুতিক মোটর তড়িত প্রকৌশলের আলোচ্য একটি বিষয়। বৈদ্যুতিক মোটর মূলত ফ্যারাডের আবেশ সূত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়ে থাকে। মোটরে প্রবাহিত তড়িৎ এর ধরন অনুযায়ী মোটর সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ

এসি মোটর
ডিসি মোটর
একটি নরম লোহার চোঙ এর উপর বেশ কয়েকবার অন্তরিত তামার তারকে জড়িয়ে আর্মেচারের কুণ্ডলী ABCD তৈরি করে ওই কুন্ডলীটিকে একটি শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্রের (N-S) মধ্যে রাখা হয়। এই চোঙটির ভেতর দিয়ে একটি ধাতবদণ্ড প্রবেশ করানো থাকে। দন্ড ও নরম লোহার চোঙ এর মধ্যে অন্তরক থাকে।

আর্মেচার তারের দুই প্রান্ত দুটি ধাতব অর্ধবলয় (R1, R2) এর সঙ্গে যুক্ত আছে। এই অর্ধবলয় দুটিকে কম্যুটেটর বলে। কম্যুটেটর দুটির প্রত্যেকটির সঙ্গে একটি করে কার্বন ব্রাশ (P,Q) আলগাভাবে স্পর্শ করানো থাকে। ব্রাশ দুটি পরিবাহী তারের সাহায্যে তড়িৎ উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
ব্যাটারির পজিটিভ ও নেগেটিভ তড়িৎদ্বার কে যথাক্রমে P এবং Q ব্রাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যখনই আর্মেচারে তড়িৎ প্রবাহিত হয় তখনই শক্তিশালী চুম্বক মেরুর মধ্যে রাখা আর্মেচারটি ফ্লেমিংয়ের বাম হস্ত নিয়ম অনুযায়ী ঘুরতে শুরু করে। ফলে, AB বাহু ভূমির সঙ্গে খারাপভাবে ওপরের দিকে এবং CD বাহু নিচের দিকে ঘুরে যায়। CD বা AB বাহুর তড়িৎ প্রবাহ চুম্বক বলয়রেখার অভিমুখী বলে এই বাহু দুটিকে কোন বল ক্রিয়া করে না। এখানে ABCD আর্মেচারের AB ও CD বাহুর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ পরস্পর বিপরীতমুখী।

আর্মেচার অর্ধপাক অর্থাৎ, 180° ঘোরার পর P ব্রাশ R2 কে এবং Q ব্রাশ R1 কম্যুটেটরকে স্পর্শ করে। ফলে আর্মেচারের CD অংশে D থেকে C এর দিকে এবং AB অংশে B থেকে A এর দিকে তড়িৎ প্রবাহিত হয়। ফলে CD বাহু উপরের দিকে এবং AB নীচের দিকে ঘুরে যায়। এভাবে আর্মেচারটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে। ফলে যতক্ষণ তড়িৎ প্রবাহ চালু থাকে ততক্ষণ আর্মেচারটি চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে অনুভূমিক অক্ষ L1L2 এর চারদিকে অবিরাম ঘুরতে থাকে।
বৈদ্যুতিক মোটরের মূলনীতি তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের উপর প্রতিষ্ঠিত। কোন শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্রে আর্মেচার কুন্ডলী কে রেখে যদি তার মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ পাঠানো হয় তবে চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে বাড়লো চক্রের মত আর্মেচার কুন্ডলীয় করতে থাকে। আর্মেচার কুন্ডলীতে যুক্ত দণ্ডের সঙ্গে পাখার ফলক বা গাড়ির চাকা লাগিয়ে আর্মেচারে উৎপন্ন যান্ত্রিক শক্তির সাহায্যে ওই গুলিকে ঘোরানো হয়।
তড়িৎবাহী পরিবাহী কুণ্ডলী বা আর্মেচার: একটি অন্তরিত তামার তারকে নরম লোহার চোঙের উপর বেশ কয়েক পাক জড়িয়ে ওই কুন্ডলীটি তৈরি করা হয়। একে আর্মেচার বলে।
শক্তিশালী ক্ষেত্র চুম্বক।
কার্বন বা অন্য কোন পরিবাহী পদার্থের তৈরি দুটি ব্রাশ।
আর্মেচারের তারটির দুই প্রান্তে যুক্ত দুটি ধাতব অর্ধবলয় বা কম্যুটেটর।
আর্মেচার কুণ্ডলীতে তড়িৎ প্রবাহের মাত্রা বাড়িয়ে এবং শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে মোটরের শক্তি বাড়ানো যায়।
আর্মেচারে তারের পাক সংখ্যা বাড়ালে মোটর এর শক্তি বাড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *